আরাফাত হোছাইন:
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণ করা সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা আজিজুল ইসলাম সোহেল ও মো. কাজলের বিরুদ্ধে। সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি নির্মাণকাজ বন্ধ এবং অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেছে সওজ কর্তৃপক্ষ। তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারির পরও স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলমান থাকার অভিযোগ উঠেছে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৌলভীরকুম এলাকায় ঢাকা (যাত্রাবাড়ী)-কুমিল্লা (ময়নামতি)-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-টেকনাফ জাতীয় মহাসড়কের (এন-১) পাশে সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের এ ঘটনা ঘটেছে। মহাসড়কের ৩৩৪ কিলোমিটার অংশের চেইনেজ ৩৩৩+৩৭৪-এর ডান পাশে সওজের অধিগ্রহণ করা জমিতে চলাচলের রাস্তা দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সওজের অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি আদেশ অমান্য করে সংশ্লিষ্ট জমিতে স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহাসড়ক আইন, ২০২১-এর বিধান অনুযায়ী মহাসড়কের নির্ধারিত এলাকায় অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। এ কারণে সরকারি জমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তদন্তে দোকানঘর নির্মাণের তথ্য পাওয়ার দাবি
চকরিয়া সড়ক উপবিভাগের প্রকৌশলী মো. আবদুল কাদের জিলানীর দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে সওজের সরকারি জমিতে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ করে দখলের তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শামশুল আলমের ছেলে আজিজুল ইসলাম সোহেল ও মো. কাজলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত সেপ্টেম্বর মাসে সওজের অধিগ্রহণ করা জমিতে অবৈধ স্থাপনা ও দোকানঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখার পাশাপাশি নির্মিত স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেন চকরিয়া সড়ক উপবিভাগের প্রকৌশলী মো. আবদুল কাদের জিলানী।
নোটিশে সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা এবং অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি জমির সুরক্ষা ও মহাসড়কের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার স্বার্থে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
যুবদল নেতার বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আজিজুল ইসলাম সোহেল চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তাঁদের অভিযোগ, সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি ও নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে সরকারি সম্পত্তি দখলের পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আজিজুল ইসলাম সোহেলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।
তিন দিনের মধ্যে স্থাপনা সরানোর নির্দেশ
চকরিয়া সড়ক উপবিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু হানিফ বলেন, “ওই স্থানে সোহেল নামের এক ব্যক্তির স্থাপনা নির্মাণের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাঁদের তিন দিনের মধ্যে স্থাপনাগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছুটিতে থাকাকালে সেই সুযোগে ওই স্থানে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালানো হয়ে থাকতে পারে। অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি জমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষা
সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ এবং সওজের নোটিশ জারির পরও কাজ চলার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারি জমি দখলের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নির্মাণকাজ বন্ধ এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এখন সওজ কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি জমির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে—এমন প্রত্যাশা তাঁদের।
উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত জমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সূত্র, তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য এবং স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা যাবে।