আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর এবার ভারতের সঙ্গেও একই খাতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহ দেখিয়েছে কুয়েত। এ লক্ষ্যে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুয়েতের সামরিক বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়েছে।
বৈঠকে ভারতের পক্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অমিতাভ প্রসাদসহ তিন বাহিনীর প্রতিনিধি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সমরাস্ত্র গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) কর্মকর্তা, আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল সার্ভিস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কুয়েতের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির সামরিক বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রায়েদ আল সাক্রান।
ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশটির বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কুয়েত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই সমঝোতা স্মারককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে রূপ দিতে চায় দুই দেশ।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত চুক্তির চূড়ান্ত বিষয়বস্তু এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে আলোচনায় সামরিক প্রশিক্ষণ, যৌথ মহড়া, সামরিক বাহিনীর জন্য ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইসলামাবাদে পাকিস্তানের সঙ্গে ‘প্রটোকল এগ্রিমেন্ট-২০২৬’ নামে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে কুয়েত।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর কুয়েতের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।
পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির পর ভারতের সঙ্গেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে কুয়েতের আগ্রহকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির বহুমুখী সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।