ভারতের মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সংঘাতে নিহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। পৃথক দুটি ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই কুকি সম্প্রদায়ের সদস্য বলে জানিয়েছে রাজ্য পুলিশ। শনিবার ও রোববারের এসব ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) মণিপুর রাজ্য পুলিশের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শনিবার রাজ্যের নোনি জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় কুকি সম্প্রদায়ের তিন সদস্য নিহত হন। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে ক্যাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযানের সময় তাঁদের মরদেহ পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে কুকি জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মণিপুরের একটি সংগঠন এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, নিজেদের আদি ভূমিতে কুকি সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলছে। হাজার হাজার মানুষ এসব বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল।

মণিপুরে কুকি ও নাগা জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিজস্ব জাতিগত ভূমির দাবি এবং বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্যের হাতে এক নাগা ব্যক্তি লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হাতে তিন কুকি যাজক নিহত হন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।

কুকি ও নাগা সম্প্রদায়ের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর আগে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও চাকরির কোটাসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই সম্প্রদায়ের সঙ্গে কুকি সম্প্রদায়ের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা ওই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বাস্তুচ্যুত ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এখনো বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছেন।

নতুন করে সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনায় মণিপুরে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *