আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মানবহানি কমাতে যুদ্ধক্ষেত্রে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন। এরই অংশ হিসেবে নতুন করে ‘আর্মি অব রোবটস’ বা ‘রোবট বাহিনী’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফেদোরভ এ পরিকল্পনার কথা জানান। ২০২২ সালে তার নেওয়া ‘আর্মি অব ড্রোনস’ প্রকল্পের আদলে এবার রোবট প্রযুক্তিকে সামরিক ব্যবস্থায় আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ফেদোরভ জানান, ‘আর্মি অব রোবটস’ কোনো একক প্রতিষ্ঠান হবে না। এটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের সমন্বিত একটি ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সরকার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করবে, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করবে এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে সেগুলোর পরীক্ষা চালাবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত প্রযুক্তির ব্যবহার পরবর্তী সময়ে আরও বাড়ানো হবে।
ফেদোরভের শেয়ার করা ‘আর্মি অব রোবটস’–এর ওয়েবসাইটে এ উদ্যোগে অংশ নিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাশিয়া দ্রুত নতুন প্রযুক্তি অনুকরণ করে উৎপাদনে নিয়ে আসছে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বেশি সেনা পাঠানোর পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে যুদ্ধ, নজরদারি, উদ্ধারকাজ ও রসদ সরবরাহের মতো বিভিন্ন কাজে রোবট ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে। সামরিক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবট প্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব কাজে ব্যবহার হবে রোবট
ফেদোরভের মতে, রোবট বাহিনী তৈরির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের প্রাণহানি কমানো। আহত সেনাদের উদ্ধার, রসদ ও গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়া, মাইন পাতা ও অপসারণ, শত্রুর অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং সামরিক অবস্থানে হামলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
ফেদোরভ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বিভিন্ন ধরনের রোবটের সম্ভাব্য ব্যবহার দেখানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব রোবট দূর থেকে মানুষ নিয়ন্ত্রণ করবে। কোনো এলাকা নিরাপদ করার পর সেখানে সেনারা প্রবেশ করবে।
ফেদোরভ আরও জানিয়েছেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করে শত্রু অবস্থানে হামলা চালানোর লক্ষ্য রয়েছে। এক বছরের মধ্যে কোনো পদাতিক সেনা ছাড়াই শত্রুর অবস্থানে অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাড়ছে চালকবিহীন স্থলযানের ব্যবহার
রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেন ইতোমধ্যে চালকবিহীন স্থলযান বা ইউজিভির ব্যবহার বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে ইউজিভি ব্যবহারের মাধ্যমে পরিচালিত মিশনের সংখ্যা ৩ দশমিক ৩ গুণ বেড়েছে।
আগস্ট মাসে ইউজিভির মাধ্যমে সম্মুখ সমরে ২৫ হাজারের বেশি রসদ সরবরাহ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত চলতি বছরের শুরু থেকে ইউজিভির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার রসদ সরবরাহ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনার তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ‘হায়েনা’ নামে পরিচিত চার চাকার চালকবিহীন যানসহ বিভিন্ন ধরনের রোবট তৈরি করছে। এসব যান বিস্ফোরক বহন করে রুশ প্রতিরক্ষা অবস্থানের দিকে এগিয়ে যেতে পারে এবং বাঙ্কারে হামলা কিংবা অগ্রযাত্রা ঠেকানোর কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই ধরনের একটি রোবট রুশ যুদ্ধবন্দীদের আটক করার কাজেও ব্যবহার করা হয়েছে।