আবদুল আজিজ:
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ১৬ নম্বর সদর ইউনিয়নের করাইয়া নগর ঠাকুরদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী র্যালি, অভিভাবক সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উক্ত বিদ্যালয়ের হলরুমে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জমির উদ্দিনের সঞ্চালনায় এবং বিদ্যালয়ের সভাপতি দিদারুল আলমের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া থানার ওসি তদন্ত সিরাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিব্বাড়ি মজিদিয়া মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মাহমুদুল হক, অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কান্তি দাশ, সাতকানিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ ইউসুফ। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন পল্লী চিকিৎসক নেপাল কান্তি দাশ, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক নাছির উদ্দিন চৌধুরী, বিশিষ্ট সমাজসেবক জামাল হোসেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক কামাল হোসেন, বিশিষ্ট সমাজসেবক ছৈয়দ নুর, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুর রহমান সওদাগর, প্রবাসী মোহাম্মদ সেলিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাবেদ প্রমুখ। প্রধান অতিথি ফরিদুল আলম বলেন, মাদকের উপদ্রব দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এই মাদক থেকে বাঁচার জন্য সবাইকে সজাগ এবং সচেতন হতে হবে। অন্যথায় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হবে এবং জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজেদের ছেলে-মেয়েদের মাদকমুক্ত রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। এ ব্যাপারে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। হয় এলাকায় মাদক কারবারিরা থাকবে, নয় মাদকবিরোধীরা থাকবে। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিলে সমাজ মাদকমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানান। তিনি আরও বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতির আলোকে যা যা করতে হয়, তা করার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর বলে জানান। অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু থেকে বাঁচার জন্য দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন ও দিকনির্দেশনা দেন পল্লী চিকিৎসক নেপাল কান্তি দাশ।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে সাতকানিয়া থানার ওসি তদন্ত সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা কী শিক্ষা দিচ্ছেন, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব হচ্ছে অভিভাবকদের। তাই অভিভাবকদের এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, ছেলেকে কীভাবে যুগোপযোগী মানুষ করা যায়, তার দায়িত্ব পিতা-মাতাকে নিতে হবে এবং সজাগ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, ছেলেরা স্কুলে যাচ্ছে কি না এবং স্কুলের নাম দিয়ে কোথায় যাচ্ছে, সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। অন্যথায় ছেলে-মেয়েরা পথভ্রষ্ট হবে।
তিনি বলেন, ছেলে-মেয়েরা কার সঙ্গে চলাফেরা করছে, সেটির প্রতিও দৃষ্টি রাখতে হবে। কারণ, ‘সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ’ বলে জানান। সভাপতির বক্তব্যে দিদারুল আলম বলেন, শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ বিনির্মাণের জন্য আমি সবার সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত। জাতিকে উন্নতির শিখরে নিতে হলে জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে যুগোপযোগী আধুনিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। অন্যথায় চ্যালেঞ্জিং বিশ্বে টিকে থাকা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, জাতিকে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হলে অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে এবং সচেতন হতে হবে। অন্যথায় জাতি উন্নত হবে না।