ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সোহাগ গাজীকে (৪৫) কুয়েতে মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মাদক ব্যবসায়ী ও আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে চলমান নিরাপত্তা অভিযানের অংশ হিসেবে হাওয়ালি প্রশাসনের নিরাপত্তা অধিদপ্তর তাকে গ্রেফতার করে বলে জানিয়েছে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোহাগ গাজী ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
কুয়েতের গণমাধ্যম ‘আরব টাইমস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপারেশনস অ্যান্ড পেট্রোলস বিভাগের ভেহিকেল অপারেশনস সেকশনের সদস্যরা একটি খোলা পার্কিং এলাকায় সোহাগ গাজীর সন্দেহজনক আচরণ দেখতে পান। পরে তাকে তল্লাশি করা হলে তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য পাওয়া যায় বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, সোহাগ গাজী বিভিন্ন স্থানে মাদক লুকিয়ে রাখতেন। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ক্রেতাদের ওই স্থানগুলোর অবস্থান জানিয়ে মাদক সরবরাহ করতেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া তার বাসায়ও মাদকদ্রব্যের মজুত রয়েছে বলে তথ্য পাওয়ার পর সেখানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় অতিরিক্ত মাদকদ্রব্য ও মাদক সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, অভিযানে মোট ১০১টি হেরোইনের প্যাকেট, ২৫টি মেথামফেটামিনের প্যাকেট, মাদক ব্যবহারের চারটি সরঞ্জাম এবং একটি নির্ভুল ওজন মাপার যন্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
সোহাগ গাজীর বিষয়ে জানতে চাইলে বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন স্বপন শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বলেন, সোহাগ গাজী ওই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি পালিয়ে যান। পরে তার ইউপি সদস্য পদ বাতিল হয়।
জসিম উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, পরে তারা জানতে পারেন সোহাগ গাজী কুয়েতে গেছেন। এলাকায় এতদিন তার মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কুয়েতে গ্রেফতারের পর এ বিষয়ে কিছু তথ্য সামনে আসছে।