মোহাম্মদ সোহেল:
চট্টগ্রাম নগরজুড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) সর্বাত্মক “বিশেষ সমন্বিত ক্রাশ প্রোগ্রাম” পরিচালনা করছে। চসিকের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সরাসরি নির্দেশে শনিবার ১৮ নং ওয়ার্ডের কালা মিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।
চসিক কর্তৃপক্ষ জানায়, বছরের এই সময় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় নগরের ২৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে সক্রিয় মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাঠে থাকা পৃথক টিম শুধু প্রাপ্তবয়স্ক মশা ধ্বংসই নয়, বাসাবাড়ি, ড্রেন, নালা, দোকানপাট, বাজারসহ জমে থাকা পানিতে লার্ভা নিধন এবং অবরুদ্ধ পানি অপসারণেও কাজ করছে।
এ ছাড়া জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেও চসিক মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, ব্যক্তিগত সতর্কবার্তা প্রদানসহ বিভিন্ন নির্দেশনা প্রচার করছে। নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে—যেখানে অনিয়ন্ত্রিত পানি জমে থাকা, পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন রাখা, ছাদে পানি সংরক্ষণসহ ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে চলছে জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা।
চসিক কর্মকর্তাদের মতে, ক্রাশ প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য—
মশক ঘনত্ব শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা
নগরবাসীকে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসে সম্পৃক্ত করা
আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ হ্রাস করা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষাকালে বাজার এলাকার বিভিন্ন গলি ও নিম্নাঞ্চলে পানি জমে থাকার কারণে মশার উপদ্রব বেড়ে গিয়েছিল। চসিকের এই ক্রাশ প্রোগ্রাম চালুর ফলে তাদের স্বস্তি ফিরেছে। ভবিষ্যতেও চসিকের নির্দেশনা মেনে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কথা জানিয়েছেন তারা।