স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজারে পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তাকে ঘিরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত মোঃ মাঈদুল ইসলাম বর্তমানে পরিবেশ অধিদপ্তর, মৌলভীবাজার জেলার সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত আছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তিনি সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা গ্রহণ করেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তার পিতা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কোনো বৈধ গেজেট বা স্বীকৃত তালিকায় তার নাম নেই। ফলে এই সনদের ভিত্তিতে চাকরি গ্রহণ আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
এছাড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণের ক্ষেত্রে যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে তা বাস্তব তথ্যের সঙ্গে মিল নেই। অভিযোগকারীদের মতে, জাতীয় পরিচয়পত্র, স্থানীয় প্রশাসনের রেকর্ড এবং অন্যান্য সরকারি নথিপত্র যাচাই করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে প্রমাণপত্র প্রদর্শনের জন্য বলা হলে তিনি তা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আরও সন্দেহজনক হয়ে ওঠে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে প্রকাশিত নিয়োগ সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের “পরিদর্শক/ইন্সপেক্টর” পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযোগকারীরা দাবি করছেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা যাচাই যথাযথভাবে হয়নি।
অভিযোগ আরও উঠেছে, তার শ্বশুরবাড়ির বর্তমান ঠিকানা কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার কাশিয়াগাড়ী গ্রামে হলেও, তার পিতার নামে ইস্যুকৃত মুক্তিযোদ্ধা সনদে (নং-১৯০৭০৪, তারিখ-১৯/০৫/২০১৩) ঠিকানা ধামশ্রেণী, উলিপুর, কুড়িগ্রাম উল্লেখ রয়েছে। এই ভিন্ন ঠিকানার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের মতে, একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে একাধিক ঠিকানার ব্যবহার প্রশাসনিক অসংগতি ও সম্ভাব্য জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোঃ মাঈদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখান এবং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন মহল মনে করছেন, অভিযোগটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং রাষ্ট্রীয় কোটা ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় এর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে শুধু চাকরি গ্রহণই নয়, বরং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। একই সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে নজরদারি রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মুক্তিযোদ্ধা কোটার মতো সংবেদনশীল সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভুয়া তথ্য প্রমাণিত হয়, তবে তা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ওপর বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিতে পারে।