মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ এবং কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা ওই অঞ্চলে পাঠাচ্ছে। এর ফলে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানিয়েছে, ইউএসএস থিওডর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ ২৭ সেপ্টেম্বর সান দিয়েগো ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর এক দিন পর ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডভিত্তিক মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সও রওনা হয়, যাতে দুই হাজারের বেশি মেরিন রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, নতুন এই মোতায়েনে প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা, নাবিক ও মেরিন যুক্ত হতে পারে। নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি এলাকায় তিনটি বিমানবাহী রণতরী ও দুটি উভচর অবতরণকারী দল অবস্থান করতে পারে বলে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বর্তমানে ওই অঞ্চলে থাকা দুটি বিমানবাহী রণতরীর সঙ্গে থিওডর রুজভেল্ট যুক্ত হলে মার্কিন নৌ উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। নতুন মোতায়েনে অতিরিক্ত বিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামও যুক্ত হচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন হামলার নির্দেশ দিলে তা বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার মাত্রা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।

সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর কারণ কী

মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন মোতায়েনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে ইরানকে ঘিরে আরও সামরিক বিকল্প থাকবে। তবে এই সেনা ও রণতরী মোতায়েনের অর্থ অবিলম্বে নতুন হামলা শুরু হবে—এমন সিদ্ধান্তের কথা যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেনি।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, সামরিক শক্তি বাড়ানো ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দরকষাকষির কৌশলের অংশও হতে পারে। একই সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখেছে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে

সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ইরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক আলোচনা শুরুর বিষয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এর বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি শর্ত দিয়েছে তেহরান। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তার জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরান নিউইয়র্কে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই গিয়েছিল।

এদিকে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দ্রুত কোনো সমঝোতা না হলে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ফলে একদিকে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ—দুই পথই একই সময়ে এগিয়ে চলছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে মার্কিন সেনা ও রণতরী মোতায়েন সংঘাতের সামরিক বিকল্পকে আরও জোরালো করছে। তবে এই মোতায়েন শেষ পর্যন্ত নতুন হামলা, দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অবস্থান নাকি কূটনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *