শেখ মোস্তাফিজুল হক নাদির:
মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িচালক মো. আরিফের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলেছেন বিথী আক্তার নামে এক নারী। তবে আরিফ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন। বিথী আক্তার গাড়িচালক মো. আরিফের বিবাহিত স্ত্রী। পারিবারিক কলহের জেরে আরিফকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাজৈর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িচালক আরিফ ঘটনাচক্রে বিথীর সঙ্গে মুসলিম পারিবারিক রীতি অনুযায়ী গত ২৫ নভেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই বিথী আক্তার স্বামী আরিফের অবাধ্য। তিনি (বিথী আক্তার) তাঁর স্বামী গাড়িচালক আরিফের নাম ভাঙিয়ে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভূমিহীনদের ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৫ জনের নিকট থেকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অবৈধ বালু ব্যবসায়ী ও ড্রেজার মালিকদের কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা আদায় করেছেন। যা তাঁর স্বামী গাড়িচালক আরিফের অজান্তেই করেছেন বলে জানা যায়।
অভিযোগকারী বিথী আক্তার দাবি করে বলেন, গাড়িচালক মো. আরিফ বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি রাতে ২৫/৩০ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার কথা বলে তাঁর (বিথীর) কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত জীবনে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে গাড়িচালক আরিফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগই মিথ্যা ও বানোয়াট। কোনো বালু ব্যবসায়ী বা অন্য কারও কাছ থেকে আমি কোনো টাকা-পয়সা নেইনি। আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার বিবাহিত স্ত্রী বিথী আক্তারকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্তের স্বার্থে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মাজেদ খালাশীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিথী তাঁর সম্পর্কে নাতনি হন। গাড়িচালক আরিফকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন। বিথীর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছে। আরিফ প্রায়ই বিথীর বাবার বাড়িতে আসতেন। বিথী আক্তার যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন, তা মাজেদ খালাশীর কাছে সত্য বলে মনে হয় না। কারণ, আরিফ কোনো টাকা-পয়সা নেননি। যে টাকা-পয়সা নেওয়া হয়েছে, তা বিথীই নিয়েছেন। এলাকায় কিছু মানুষ আরিফকে হেয় করার জন্য পরিকল্পিতভাবে এসব করছে বলে তাঁর ধারণা।
ভুক্তভোগী তাসলিমা বেগম জানান, “আমাকে ঘর দেওয়ার কথা বলে ৮ মাস আগে বিথী আক্তার আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। টাকার মধ্যে পরে ৩ মাসে আমাকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে। কিন্তু ইউএনও’র গাড়িচালক আরিফ আমার কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেননি। টাকা-পয়সা নিয়েছে বিথী, সে-ই আমার টাকা দেবে।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে আরিফকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহফুজুল হক বলেন, “আমার দপ্তরের গাড়িচালক আরিফের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তার স্বপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা তথ্য আমরা পাইনি। প্রাথমিক অনুসন্ধানে মনে হয়েছে, এটি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আনা একটি অভিযোগ। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ায় আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।”