সামান্য বৃষ্টিতেই ফুলবাড়িয়া শ্যামলীবাড়ি মোড়ে জলাবদ্ধতা

মো. ফজলুল হক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ফুলবাড়িয়া শ্যামলীবাড়ি মোড় এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে হওয়া হালকা বৃষ্টিতেই এলাকার প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আশপাশের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটু, কোথাও আবার কোমরসমান পানি জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর ধরে এ এলাকার জলাবদ্ধতা একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যায় এবং দিনের পর দিন সড়ক ও বাড়িঘরে পানি জমে থাকে। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার সকালের বৃষ্টির পর পুরো ফুলবাড়িয়া শ্যামলীবাড়ি মোড় এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন বাসাবাড়ির আঙিনার পাশাপাশি ঘরের ভেতরেও পানি প্রবেশ করেছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবার ঘর থেকে বের হতে পারেনি। পানির কারণে শিশু, বৃদ্ধ ও নারীদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি দেখা দেয়।

জলাবদ্ধতার কারণে এলাকার শিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। অভিভাবকদের ভাষ্য, রাস্তায় কোমরসমান পানি থাকায় কোনো শিক্ষার্থী নিরাপদে স্কুল বা কলেজে যেতে পারেনি। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এদিকে সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দোকানে ক্রেতা না আসায় বেচাকেনা কমে গেছে। অনেকেই দোকান খুলতে পারেননি। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতও ব্যাহত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মাষ্টার দৈনিক স্বাধীন সংবাদকে বলেন, “আমরা প্রায় ১৫ বছর ধরে এই দুর্ভোগ সহ্য করছি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা পানির নিচে চলে যায়। বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে পারি না। অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। বহুবার পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

তবে সম্প্রতি পৌরসভার উদ্যোগে ড্রেন নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশন লাইনের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে কাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করলেও দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন।

সুমন মাষ্টার আরও বলেন, “অনেক অপেক্ষার পর কাজ শুরু হয়েছে, এজন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। তবে কাজ যেন ধীরগতিতে না চলে। দ্রুত শেষ করে এলাকাবাসীকে এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে হবে।”

এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই জলাবদ্ধতার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। শিশুদের শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মস্থলে যাতায়াত এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে তারা এই সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্থানীয়দের মতে, শুধু সাময়িক ব্যবস্থা নয়, আধুনিক ও স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রয়োজনীয় রাস্তা সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমেই এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *