লিমা ইসলাম:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে আয়োজিত গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাসব্যাপী বিশেষ প্রচারণামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন। লিফলেট বিতরণ, ব্যানার ও বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন, মাইকিং এবং ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে ভিডিওচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে—বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ব্যস্ত পয়েন্টগুলোতে—দৃষ্টিনন্দন ও বড় আকারের বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এসব বিলবোর্ডে গণভোটের তাৎপর্য, ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্ব এবং নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত অথচ কার্যকর বার্তা তুলে ধরা হয়েছে, যা পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক কার্যালয়ে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে ব্যানার টানানো হয়েছে। নগরের অলিগলি থেকে শুরু করে ব্যস্ত বাজার ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে প্রদর্শিত ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে সহজ ভাষায় গণভোটের প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সোহেল হাসান জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করে এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এ প্রচারণামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গণভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। ভোটাররা যেন বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন—এ লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ২০ হাজার লিফলেট ছাপানো হয়েছে এবং সেগুলো সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অন্তত ২০টি বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে। মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় নিয়মিত মাইকিং, ভিডিওচিত্র প্রদর্শনসহ নানামুখী প্রচারণা কার্যক্রম চলমান থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট আয়োজনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সমন্বিত ও বহুমাত্রিক প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি করবে। এতে গণভোট সম্পর্কে জনসাধারণের সচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণও আরও অর্থবহ ও কার্যকর হবে।