আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সৌদি আরব ও কাতারে অতিরিক্ত দুটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে একটি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা এবং অন্যটি কাতারের একটি প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনার নিরাপত্তায় ব্যবহারের জন্য পাঠানো হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এসব প্যাট্রিয়ট ব্যাটারি উপসাগরীয় দুই দেশে পাঠানো হয়। সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান বা সংঘাতের ক্ষেত্রে মিত্র দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা জোরদার করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা বর্তমানে বেশি। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত নিয়েও চাপ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে ইরানে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের তৎপরতার খবরের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও বাড়ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও সেনা সদস্য এ অঞ্চলের দিকে পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপও মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।
এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক শক্তির সঙ্গে নতুন করে এসব সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনী যুক্ত হচ্ছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা বাড়ছে।
তবে প্যাট্রিয়ট মোতায়েনকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সরাসরি ঘোষণা হিসেবে দেখানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে মূলত সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ তেল-গ্যাস স্থাপনা সুরক্ষা এবং মিত্র দেশগুলোকে আশ্বস্ত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।