কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আকবর শাহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ কামরুজ্জামানকে খুলশী থানায় বদলি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে আকবর শাহ থানা থেকে খুলশী থানায় বদলি করা হয়। দীর্ঘ কয়েক মাস আকবর শাহ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাহসিকতা, চৌকসতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কারণে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
আকবর শাহ থানায় দায়িত্ব পালনকালে ওসি মোঃ কামরুজ্জামান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, তার নেতৃত্বে এলাকায় সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা ছিল দৃশ্যমান। একই সঙ্গে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও তিনি কঠোর অবস্থানে ছিলেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। চাঁদাবাজি যার পক্ষ থেকেই হোক না কেন, তার দায়িত্ব পালনকালে কেউ চাঁদাবাজি করার সাহস পেত না বলেও তারা উল্লেখ করেন।
স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকবর শাহ থানায় দায়িত্ব পালনকালে ওসি কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করতেন। বিশেষ করে সন্ত্রাস, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা হলো এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সে ক্ষেত্রে ওসি কামরুজ্জামানের দায়িত্ব পালনের সময় তারা নিরাপত্তার বিষয়ে স্বস্তিতে ছিলেন।
স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘আমরা ওসি মোঃ কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভালো ছিলাম। সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও মাদক থেকে মুক্ত ছিলাম। চাঁদাবাজ সে যে দলেরই হোক, ওসি কামরুজ্জামানের সময়ে চাঁদাবাজি করার সাহস করেনি।’ তার বদলির পর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়দের দাবি, ওসি কামরুজ্জামান আকবর শাহ থানায় দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ফলে তার বদলির খবরে অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একজন দায়িত্বশীল ওসি যখন কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন এবং সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন, তখন তার বদলি হলে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
তবে আকবর শাহ থানায় নতুন যে কর্মকর্তা দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, তিনিও ওসি কামরুজ্জামানের মতো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, পুলিশের দায়িত্ব হলো সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। নতুন ওসির কাছেও তাদের একই প্রত্যাশা থাকবে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, আকবর শাহ থানা এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন। ওসি কামরুজ্জামান যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, নতুন কর্মকর্তাও একইভাবে কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
এদিকে, ওসি মোঃ কামরুজ্জামানের নতুন কর্মস্থল খুলশী থানায় দায়িত্ব গ্রহণকে ঘিরেও স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আকবর শাহ থানায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মস্থলেও তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন পুলিশ কর্মকর্তার সাফল্য শুধু অপরাধ দমন কিংবা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার আচরণ, তাদের নিরাপত্তাবোধ তৈরি করা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এসব দিক বিবেচনায় আকবর শাহ থানায় দায়িত্ব পালনকালে ওসি কামরুজ্জামান স্থানীয়দের আস্থা অর্জন করেছেন বলে দাবি তাদের।
আকবর শাহ থানার বাসিন্দারা বলেন, ওসি কামরুজ্জামানের সময়ে তারা যেভাবে নিরাপত্তা অনুভব করেছেন, ভবিষ্যতেও একই ধরনের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে চান। তার স্থলাভিষিক্ত কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে থানা এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
অন্যদিকে, খুলশী থানায় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ওসি মোঃ কামরুজ্জামান নতুন কর্মস্থলেও তার পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আকবর শাহ থানায় তার দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয়দের যে আস্থা তৈরি হয়েছে, নতুন কর্মস্থলেও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।