স্টাফ রিপোর্টার:
মিরপুর-১ এর জহুরাবাদ এলাকার পালপারাঘাট ও জালাল হাজির বাড়ি সংলগ্ন একটি ভাড়াবাসাকে কেন্দ্র করে ‘বাংলা জাহানারা’ নামে পরিচিত এক নারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চোলাই মদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, দারুস সালাম থানাধীন ওই এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে রাত গভীর পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে, যেখানে বিভিন্ন বয়সী লোকজনের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ওই নারীর নেতৃত্বে বা সংশ্লিষ্টতায় দীর্ঘদিন ধরে দেশীয়ভাবে তৈরি মদ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিক্রির একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, যা আশপাশের সামাজিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকেই অচেনা ব্যক্তিদের ভিড় বাড়তে থাকে এবং আশপাশের গলিতে সন্দেহজনক চলাফেরা দেখা যায়। অনেকে অভিযোগ করেন, স্কুল-কলেজগামী কিশোরদেরও ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, তারা একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলেও উল্টো হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে, ফলে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
কেউ কেউ অভিযোগ করেন, মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় টহল দিলেও কার্যকর ও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় কিছুদিন পর পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। এতে করে এলাকাবাসীর মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান। স্থানীয়রা আরও দাবি করেন, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে যুবসমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
অভিভাবক মহল বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, এলাকায় যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত এসব অভিযোগ এখন পর্যন্ত তদন্তসাপেক্ষ এবং প্রমাণিত নয় বলে সচেতন মহল মনে করেন।
এ বিষয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া দেশীয় মদ উৎপাদন, মজুদ, পরিবহন ও বিক্রি একটি গুরুতর অপরাধ, যার জন্য সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। তারা আরও বলেন, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসে।
স্থানীয়রা এখন দারুস সালাম থানা পুলিশের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ও সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।