স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর মহাখালী বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ‘জেবিআর সিকিউরিটি কোম্পানি’ নাম ব্যবহার করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চাকরি দেওয়ার নাম করে, জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে এবং নিরাপত্তা গার্ড নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জুয়েল ওরফে রকি নামে এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নিজেকে এই চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে ব্যবহার করলেও প্রকাশ্যে খুব কমই ধরা দেন। তার বড় ভাই রকি বিভিন্ন সময়ে ছায়ার মতো থেকে পুরো কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহায়তা করেন বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করছেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, গ্রামাঞ্চল থেকে আসা বেকার তরুণ-তরুণীদের চাকরির আশ্বাস দিয়ে প্রথমে নিবন্ধন ফি, প্রশিক্ষণ ফি এবং নিরাপত্তা জামানতসহ বিভিন্ন খাতে টাকা নেওয়া হয়। পরে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও চাকরি না পেয়ে অনেকেই বুঝতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ টাকা ফেরত চাইতে গেলে নানা ধরনের হুমকি-ধমকির মুখেও পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রির নামে অগ্রিম টাকা নেওয়ার পর দলিল বা কাগজপত্র না দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। কিছু ভুক্তভোগীর দাবি, অফিসে যোগাযোগ করতে গেলে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং পরবর্তীতে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, মহাখালী এলাকার একটি ভবনে ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালানো হলেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে প্রতারিত মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই ধরনের কথিত সিকিউরিটি কোম্পানির আড়ালে প্রতারণা বন্ধ না হলে আরও অসংখ্য মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
অভিযোগের বিষয়ে জুয়েল বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা আশা করছেন, বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।